Vatbondhu News
প্রকাশ : Aug 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কী হলো রাজস্ব সম্মেলনে, যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • ৬ লাখ ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রত্যাশা
  • ভবিষ্যৎ রাজস্ব আহরণের কৌশল নিয়ে আলোচনা
  • এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্ব
  • সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, করদাতাদের আস্থা বাড়ানো, কর ব্যবস্থা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা এবং ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে কর প্রদানে সক্ষম নতুন মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় আনা এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের আধুনিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ করে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজস্ব আহরণে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এসব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।


সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে বিভক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন কাঠামোয় একটি প্রতিষ্ঠান রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। বড় চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের প্রয়োজনেই এ লক্ষ্য অর্জনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এনবিআর।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সারাদেশ থেকে আসা এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

কী হলো সম্মেলনে
রাজস্ব সম্মেলনের দ্বিতীয় এই আসর কেবল রাজস্ব প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরার আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমস্যা, এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসনে বিনিয়োগ, ডিজিটালাইজেশন এবং ভবিষ্যৎ রাজস্ব আহরণের কৌশল নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। 




সম্মেলনে থাকা এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় ও সমস্যাগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে লোকবল, অবকাঠামো ও পরিবহন সংকটের কারণে রাজস্ব আহরণ কঠিন হয়ে পড়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন

রাজস্বের খরা কাটাতে সরকারের ছয় মাসে যত পদক্ষেপ এনবিআরের
তিনি বলেন, ‘প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের ব্যয় মাত্র ২১ পয়সা, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় অত্যন্ত কম। একই সঙ্গে এনবিআরের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি সংস্থার প্রয়োজনীয় আন্তঃসংযোগ না থাকায় কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।’

মাঠপর্যায়ের সমস্যা তুলে ধরেন এনবিআর কর্মকর্তারা
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আহরণে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যা, জনবল, অবকাঠামো, পরিবহন ও আন্তঃসংযোগের ঘাটতি সম্পর্কে জানতে পারেন।  


প্রধানমন্ত্রী এসব সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সম্মেলনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে রাজস্ব প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকটের চিত্রও উঠে আসে।

সম্মেলনে শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের কমিশনার নাহিদা ফরিদি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে ভীতিকর ও অস্বস্তিকর পরিবেশ ছিল। রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার কেন্দ্র করে আন্দোলন এবং পরে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে কাজের আগ্রহ কমে গিয়েছিল।

ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি কর্মকর্তাদের এ ‘পীড়াদায়ক পরিস্থিতি’ থেকে মুক্ত করার অনুরোধ জানান।


ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে গতি, দৃশ্যমান ‘পরিবর্তন নেই’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যেতে চায় সরকার। সরকার সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চায় এবং কর্মকর্তাদের দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

করদাতার আস্থায় গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে এবারের সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় করদাতাদের আস্থা। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। কর ব্যবস্থাপনা ও কর আদায় পদ্ধতি সহজ এবং দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি টেকসই নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে যথাযথভাবে করের আওতায় আনার ওপর জোর দেন। এজন্য ডিজিটাল, আধুনিক ও উপাত্তভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।


আরও পড়ুন

এনবিআরকে মানুষ ভয় করবে না, বিশ্বাস করবে: প্রধানমন্ত্রী
দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন সম্ভব জানিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটি আপনাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে। করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামো জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও এখনো সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক। নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।



তারেক রহমান বলেন, সারাবিশ্বে একটি প্রযোজ্য বিষয় হলো আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় নয়। বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। একজন করদাতা যিনি নিম্ন কর আদায় করছেন রাষ্ট্র যেমন তাকে সম্মানিত করবে, একইভাবে যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন তাকেও কর প্রদানের জন্য যথাযথভাবে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।

কর ব্যবস্থাপনা কিংবা কর আদায় পদ্ধতি সহজ এবং দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কর দেন, কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি খুব টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা বা কার্যক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্য ডিজিটালি আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা কার্যকরে গুরুত্বারোপ
সম্মেলনে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার সময় কাস্টমসের পণ্য খালাস প্রক্রিয়া নিয়েও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট প্রথম সচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পণ্য খালাসে কোথায় জটিলতা রয়েছে এবং কীভাবে এ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন।’

আরও পড়ুন

কর-জিডিপি অনুপাত ৯.৬ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে এটি কীভাবে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে পারে, সে বিষয়েও কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

ভাঙছে এনবিআর
এবারের রাজস্ব সম্মেলনের অন্যতম বড় ঘোষণা আসে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যে। তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন কাঠামোয় একটি হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ, অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই প্রতিষ্ঠান ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ হবে ‘অ্যাকশন টিম’, যারা কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় করবে।

আরও পড়ুন

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান
তবে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এ সংস্কারে সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না। রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে আরও দক্ষ করতে আমলানির্ভরতার বাইরে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এনবিআর: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
রাজস্ব সম্মেলনের আরেকটি বড় বার্তা ছিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিশাল এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব কিছু নয়। 

সম্মেলনে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। এটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের প্রয়োজনেই এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এনবিআর।



তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ১২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তার মতে, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির মন্থরতা কাটিয়ে এটি একটি সুস্পষ্ট পুনরুদ্ধার।

আরও পড়ুন

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৪৫% প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন: এনবিআর চেয়ারম্যান
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎসে আয়কর কর্তনকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বলেন, রপ্তানি, খুচরা বিক্রয়, জুয়েলারি, সম্পত্তি হস্তান্তর ও লভ্যাংশ আয়ের মতো খাতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

কর ফাঁকি শনাক্তে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি, অনিবাসী করদাতাদের তদারকি, বকেয়া কর আদায়, অডিট ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ভ্যাট খাতে করজাল সম্প্রসারণ, নতুন ভ্যাটদাতা শনাক্ত, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল বাড়ানো এবং সিগারেট-তামাকজাত পণ্যে ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থারের কথা বলা হয়েছে। শুল্ক খাতে যথাযথ শুল্কায়ন, দ্রুত পণ্য খালাস, বন্ডের অপব্যবহার রোধ ও চোরাচালান প্রতিরোধে জোর দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

রাজস্ব আহরণের ইতিহাস ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা
এবারের সম্মেলনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন স্টলে রাজস্ব আহরণের ইতিহাস ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা। কাস্টমস, ল্যান্ডপোর্ট ও বিমানবন্দর স্টলে চোরাচালানের সময় উদ্ধার হওয়া সোনার বিভিন্ন চালান প্রদর্শন করা হয়। রামবুটানের ভেতরে সোনার রিং, কফির মিনি প্যাকেট ও ট্যাংয়ের প্যাকেটে দানাদার সোনা, কুলিং ফ্যান ও দরজার কবজায় সোনার পিণ্ড, ছাতা, পানির ট্যাপ, পাওয়ার ব্যাংক, সাবান, খেলনা গাড়ি ও বইয়ের ভেতরে লুকানো সোনা দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়ায়।

আরও পড়ুন

কাস্টমসের আটক পণ্য নিষ্পত্তিতে নতুন নিয়ম, ই-নিলামে ৫ শতাংশ জামানত
সম্মেলনে ডায়েরির মলাটে লুকানো হেরোইন এবং জ্যাকেটের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো সোনার পেস্টও প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি দুর্লভ মূর্তি, বিভিন্ন দেশের পুরোনো মুদ্রা, সিগারেটের ব্র্যান্ড ও প্যাকেট, ভ্যাট-কাস্টমস-আয়কর সংক্রান্ত ঐতিহাসিক দলিল, আয়কর প্রবর্তনের ইতিহাস, সম্রাট শাহ আলম ও মোহাম্মদ শাহ’র আমলের মুদ্রা এবং রাজস্ব আদায়ে ব্যবহৃত পুরোনো টাইপরাইটার প্রদর্শন করা হয়।

অন্যদিকে ই-রিটার্ন, করসাথি, বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো, কাস্টম ও আয়কর স্টলে উপস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিক রাজস্ব প্রশাসনের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

রাজস্ব সম্মেলন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজস্ব প্রশাসনে দীর্ঘদিনের জড়তা কাটিয়ে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

সারাদেশ থেকে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দলবেঁধে ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন, পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

রাজস্ব সম্মেলনের সচিব ও কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেছেন এবং সম্মেলনের কার্যক্রম দেখে খুশি হয়েছেন। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কর দিয়ে কেউ দেউলিয়া হয় না : এনবিআর চেয়ারম্যান

1

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

2

আলহাজ টেক্সটাইলসের সর্বোচ্চ দরপতন

3

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

4

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

5

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

6

উইন-উইন সমাধানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শুল্ক-চুক্তি করতে আগ্রহী ঢ

7

বিমানের টিকেট থেকে রাজস্ব বাড়াতে নতুন অধ্যাদেশে চূড়ান্ত অনুম

8

শুল্ক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা চালু

9

আমদানিমূল্য পরিশোধের সময় বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

10

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

11

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: তদন্তভার সিআইডি থেকে নিতে চা

12

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতি: বিদেশি বিনিয়োগে বাধ্যতামূলক ব্য

13

জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস ক্ষতি করে কিনা তা প

14

বেক্সিমকোর ২৯ হাজার শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে

15

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

16

ভূরাজনীতিতে সরকারের শত দিন ও কদম আলী: মোঃ আলীমুজ্জামান

17

জঁ-জাক রুসোর উক্তি ও চলমান পরিস্থিতি: মোঃ আলীমুজ্জামান

18

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

19

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য

20