প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 16, 2025 ইং
বিশ্বের স্বর্ণ মজুদের নাটকীয় রূপান্তর: পশ্চিম থেকে পূর্বে ক্ষমতার সরে যাওয়া (১৯৫১–২০২৫)

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ডেস্ক: গত সাত দশকে বিশ্বের স্বর্ণ মজুদের চিত্রে ঘটেছে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। একসময় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপ ছিল বৈশ্বিক স্বর্ণ ভাণ্ডারের একচ্ছত্র অধিপতি, ২০২৫ সালে এসে সেই আধিপত্য ভাগাভাগি হয়ে গেছে — এখন এশিয়া বিশ্ব স্বর্ণ শক্তির নতুন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
১৯৫১ সালে, যুক্তরাষ্ট্র একাই ধারণ করত প্রায় ২০,৫০১ মেট্রিক টন স্বর্ণ, যা ছিল বিশ্ব মোট মজুদের অর্ধেকেরও বেশি। এর পরেই ছিল যুক্তরাজ্য (১,৭৯৬ টন), সুইজারল্যান্ড (১,০৭৮ টন) এবং ফ্রান্স (৫৩০ টন)। অন্যদিকে ইতালি (৩০০ টন), রাশিয়া (২৪০ টন), চীন (২৪০ টন) এবং ভারত (১২০ টন)— এরা ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট মজুদধারী দেশ।
২০২৫ সালে এসে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ মজুদধারী দেশ, তবে তার মজুদ কমে দাঁড়িয়েছে ৮,১৩৩ টনে। এদিকে জার্মানি (৩,৩৫১ টন) উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে, আর ইতালি (২,৪৫১ টন) ও ফ্রান্স (২,৪৩৭ টন) এখন ইউরোপের স্বর্ণ শক্তি হিসেবে অবস্থান করছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটেছে এশিয়ায়।
রাশিয়া (২,৩৩২ টন) এবং চীন (২,২৮০ টন) এখন স্বর্ণ মজুদের বড় শক্তি, যা তাদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ভারত (৮৭৬ টন) এবং জাপান (৮৩৪ টন)-ও এখন শীর্ষ স্বর্ণধারী দেশের তালিকায়, যা এশিয়ার ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রতীক।
অন্যদিকে একসময় শীর্ষে থাকা যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও বেলজিয়াম এখন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে, যা পশ্চিমা স্বর্ণ আধিপত্যের পতনকে স্পষ্ট করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে,
“স্বর্ণ আসলে নিঃশব্দে পৃথিবীর ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করেছে — যুদ্ধ-পরবর্তী আমেরিকা থেকে আজকের বহুমুখী এশিয়ান নেতৃত্বের যুগে,”
বলে মন্তব্য করেন এক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।
২০২৫ সালে এসে স্বর্ণ কেবল আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক নয়; এটি এখন ভূরাজনৈতিক শক্তিরও প্রতিচ্ছবি, যা স্পষ্টভাবে দেখায় — বিশ্বের অর্থনৈতিক নেতৃত্ব ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে পূর্বে সরে গেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ভ্যাটবন্ধু নিউজ