
কদম আলী:(চোখ কচলাতে কচলাতে) ওরে বাবারে! তুই কি আসলেই এলিয়েন? না কি এনবিআর থেকে নতুন কোনো ছদ্মবেশে আসলি আমার রিটার্ন চেক করতে?
এলিয়েন কদম:-(সবুজ রঙের স্যুট আর মাথায় চারটা অ্যান্টেনা নিয়ে) ভয় পাস না কদম। আমি তোরই এক দূর সম্পর্কের মহাজাগতিক সংস্করণ। তোদের এই গ্রহে নাকি 'ভ্যাট' নামের এক অদ্ভুত দানব আছে, যা কেবল মানুষকে গিলে খায় কিন্তু পেট ভরে না—সেটা দেখতেই আসলাম।
কদম আলী:(দীর্ঘশ্বাস ফেলে) ঠিকই দেখেছিস ভাই। আমাদের এখানে ভ্যাট হলো এমন এক জিনিস, যা তুই নিঃশ্বাস নিলেও কাটা হয়, আর বিষন্ন থাকলেও কাটা হয়। তুই তো আকাশ থেকে আসলি, বল তো—ওখানে কি ডলারের দাম বাড়লে ভ্যাটও লাফ দিয়ে আকাশে ওঠে?
এলিয়েন কদম:(মাথার অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে) আরে না! আমাদের গ্রহে তো সব চলে Universal System Trust"এ। সেখানে কোনো অফিসার নেই, কোনো ডলারের মারপ্যাঁচ নেই। আমরা যখন কোনো গ্রহ থেকে শক্তি কিনি, তখন আমাদের সিস্টেম নিজেই জানে কতটুকু খরচ হলো আর কতটুকু অবদান গ্রহে জমা হলো। তোদের এখানে তো শুনলাম মানুষ মানুষকে খুঁজে বেড়ায় ট্যাক্স নেওয়ার জন্য?
কদম আলী: আর বলিস না! এখানে বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, আর ভ্যাট অফিসার ফাইল ধরলে ছত্রিশ ঘা। আমাদের এনবিআর চেয়ারম্যান সাহেব বলেন, পণ্যের দাম বাড়লে নাকি কর দায়ী না, সব দোষ নাকি ওই ডলারের।
এলিয়েন কদম:*(অবাক হয়ে) এটা তো হাস্যকর! আমি তোর মাথার ভেতর থেকে একটা ডাটা পেলাম যেটাকে তোরা বলিস Triple Hit। ডলারের দাম বাড়লে তোদের পণ্যের মূল দাম বাড়ে, আর সেই বড় দামের ওপর তোদের সরকার যখন ১৫% ভ্যাট বসায়, তখন তো ভ্যাটের পরিমাণও বেড়ে যায়। এটা তো তোদের সরকারের জন্য একটা লটারি! ডলার বাড়লে তোদের সরকার তো ধনী হচ্ছে, আর তোরা গরিব হচ্ছিস।
কদম আলী: তুই তো দেখি আমার চেয়েও বেশি বুঝিস! কিন্তু আমাদের হর্তাকর্তারা তো বলে— "নতুন করদাতা খুঁজে পাই না।"
এলিয়েন কদম: কেন পাবে না? আমি উপর থেকে স্ক্যান করে দেখলাম, তোদের দেশে কোটি কোটি মানুষ আছে যারা অনেক সম্পদের মালিক কিন্তু কোনো ডাটাবেজে নেই। তোদের এনবিআর নাকি এখন Risk Module বসাচ্ছে? কিন্তু আমি তো দেখলাম তোদের এক সিস্টেমের সাথে অন্য সিস্টেমের কোনো সংযোগ নেই! এটা তো অনেকটা আমাদের মহাকাশযানে ফুয়েল ট্যাংক না রেখে ড্যাশবোর্ডে স্পিডোমিটার বসানোর মতো!
কদম আলী:(হেসে) ঠিক বলেছিস! ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া আর কী। আচ্ছা এলিয়েন ভাই, তোদের ওখানে কি দুর্নীতি আছে?
এলিয়েন কদম: দুর্নীতি করার সুযোগই নেই। কারণ আমাদের সিস্টেম হলো Human-Independent, অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির ইচ্ছেমতো কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই। তোদের এখানে তো সিস্টেম এমনভাবে রাখা হয় যাতে পকেট ভারী করার জন্য একটা 'ব্যাকডোর' খোলা থাকে।
কদম আলী: আমাদের ভাগ্যটাই খারাপ। পরিকল্পনার কথা শুনলে মনে হয় চাঁদে বাড়ি বানাবো, আর বাস্তব দেখে মনে হয় নর্দমার গর্তেও জায়গা হবে না। তোদের গ্রহে কি কোনো Corporate Constitution আছে?
এলিয়েন কদম: অবশ্যই! আমাদের প্রতিটা লেনদেন এক একটা নাক্ষত্রিক কোড দিয়ে সংরক্ষিত। কেউ কাউকে ঠকাতে পারে না। তোদের গ্রহেও যদি এমন একটা ফ্রেমওয়ার্ক থাকতো যেখানে ডাটা নিজেই কথা বলত, তবে আজ তোকে এভাবে ছাদের ওপর বসে হাহাকার করতে হতো না।
কদম আলী: শোন এলিয়েন কদম, যাওয়ার সময় পারলে আমাদের এই সিস্টেমটা একটু তোর লেজার গান দিয়ে ঠিক করে দিয়ে যাস। অন্তত যেন "সিস্টেম ট্রাস্ট"টা ফিরে আসে।
এলিয়েন কদম: আকাশের দিকে ওড়ার প্রস্তুতি নিয়ে) ওরে কদম, লেজার দিয়ে হার্ডওয়্যার ঠিক করা যায়, কিন্তু মানুষের "সদিচ্ছা" ঠিক করা যায় না। যেদিন তোরা ব্যক্তির ওপর ভরসা ছেড়ে সিস্টেমের ওপর ভরসা করবি, সেদিনই মুক্তি পাবি। চললাম, গ্যালাক্সি-৯ এ একটা ভ্যাট-মুক্ত কফি খেতে হবে!
কদম আলী: যাস না ভাই! যাওয়ার আগে বলে যা— আমাদের এই কদম আলীদের দিন কি আদৌ ফিরবে?
এলিয়েন কদম:(মিলিয়ে যাওয়ার আগে) ফিরবে, যেদিন তোরা "কল্পনা" ছেড়ে বাস্তবের "সিস্টেম আর্কিটেকচার" তৈরি করতে শিখবি! ততক্ষণ পর্যন্ত ওই "ট্রিপল হিট" খেয়েই টিকে থাক!
কদম আলী একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকল। নিচে মতিঝিলের জ্যামে হাজার হাজার মানুষের হাহাকার শোনা যাচ্ছে, আর ওদিকে এনবিআরের সার্ভারে হয়তো তখন কোনো এক 'রিস্কি' করদাতার ফাইল খোঁজা হচ্ছে। কদম আলী বিড়বিড় করে বলল, *"আসলেই, সিস্টেম ট্রাস্ট ছাড়া সব কল্পনা!