
বাস্তব কদম আলী মাথায় হাত দিয়ে ছাদের কোনায় বসে আছেন। ঠিক তখন এক ঝলক নীল আলো টেক অফ করে সামনে এসে দাঁড়ালো এলিয়েন কদম আলী। তার গায়ের রঙ সবুজ, কিন্তু পরনে একটা লুঙ্গি আর হাতে একটা ট্যাক্স ফাইলের খাতা।
এলিয়েন কদম আলী: আরে কদম ভাই! মুখটা একদম শুকনা কাগজের মতো করে রাখছ কেন? মনে হইতেছে তোমার মঙ্গল গ্রহের সব ফসল খরায় পুইড়া গেছে!
বাস্তব কদম আলী: আরে ভাই এলিয়েন, তুমি তো ভিনগ্রহের কদম আলী, তোমার আর আমার দুঃখ বুঝবা কেমনে? বহু সাধ করে, পেটে গামছা বাঁইধা টাকা জমাইয়া একটা জমি কিনছিলাম। ভাবলাম পোলাপান নিয়া একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করমু। তো জমিটা দিলাম এক ডেভেলপাররে। ব্যাটা আমারে দিল ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি। আর অমনি সরকার আইসা খপ করে ধরে বলল—"১৫% ট্যাক্স দাও!" সাড়ে সাত লাখ টাকা খুশিমনে ট্যাক্স দিয়া দিলাম।
এলিয়েন কদম আলী: বাহ! তো জমি রেজিস্ট্রির সময় ছাড় পাইছিলা?
বাস্তব কদম আলী: ছাড়ের নামও নিও না! সেখানেও গেইন ট্যাক্স, উৎস কর দিতে দিতে পকেট ফাঁকা। এখন ডেভেলপার পাঁচটা ফ্ল্যাট বানাইয়া আমারে চাবি দিতে আসছে, অমনি ২০ Semester-এর পড়াশোনার মতো নতুন বাজেট এসে হাজির! বলতেছে, ফ্ল্যাটের মূল্যের ওপর নাকি আরও ১৫% ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে! আমি তো ভাই ভাবতাছি, এই ৫টা ফ্ল্যাট যদি ৩ কোটি টাকার হয়, তবে আরও ৪৫ লাখ টাকা ট্যাক্স আমি পামু কই? নিজের জমিতে ফ্ল্যাট পাইতেছি, এখানে আমি নতুন কী কিনলাম? সরকারের এই ট্রিপল ট্যাক্সেশনের ঠেলায় আমার ফ্ল্যাটের মূল্য আর আমার অস্তিত্ব—দুইটাই এখন মহাশূন্যে চইলা গেছে!
এলিয়েন কদম আলী: আহা রে, বাস্তব কদম ভাইরে আমার! তোমার মতো "এক স্ত্রী, এক জমি" ওয়ালা সোজা কদম আলীরাই তো এই দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় ধরাটা খায়! তুমি আছ তোমার সাধের জমি আর পাঁচটা ফ্ল্যাট নিয়া। আমাদের ওদিকে একটা প্রবাদ আছে—"যে দেয় ট্যাক্স, তার জীবন ফ্যাক্স!" আর যারা চার-পাঁচটা বিয়া কইরা পরকীয়ার রসে ডুব দিয়া আছে, তাদের তো অবৈধ সম্পদের পাহাড়, অথচ তাদের গায়ে একটা ট্যাক্সের আঁচড়ও লাগে না!
বাস্তব কদম আলী: বলো কী? পরকীয়ার সাথে ট্যাক্সের কী সম্পর্ক? আর অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের সাথে বিয়ার কী কানেকশন?
এলিয়েন কদম আলী: ওহ কদম ভাই, তুমি তো দেখছি শুধু ট্যাক্স ফাইল বোঝো, সংসারের ‘ফাইল’ বোঝো না! শোনো, আমাদের গ্যালাক্সির পাশেই তো তোমাদের এই ঢাকা শহর। আমি উপর থেকে সব টেলিস্কোপ দিয়ে দেখি। এই যে যারা চার-পাঁচটা বিয়া করে কিংবা গোপনে ডজনখানেক পরকীয়া চালায়, তাদের বুদ্ধি দেখছ? তারা কোনোদিন নিজের নামে সম্পদ রাখে না! সব সম্পদ ভাগ করে দেয় স্ত্রীদের নামে আর বান্ধবীদের নামে। এক ফ্ল্যাট প্রথম স্ত্রীর নামে, আরেকটা দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে, আর সবচেয়ে দামি গুলশানের ফ্ল্যাটটা থাকে গোপন প্রেমিকার নামে! একেই তো বলে আসল "অ্যাসেট ডাইভারসিফিকেশন"! ট্যাক্স অফিসার এসে যখন কড়া নাড়ে, তখন তারা বলে—"স্যার, আমি তো ফকির, সব তো আমার স্ত্রীদের আর বান্ধবীদের নামে!"
বাস্তব কদম আলী: ওরে বাপরে! তার মানে পরকীয়া করলে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া সহজ?
এলিয়েন কদম আলী: সহজ মানে? একেবার পানিভাত! ধরো, এক কালো টাকার পাহাড়ওয়ালা লোক, তার আসল স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে এক পরকীয়া প্রেমিকার ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠেছে। এখন ট্যাক্স কমিশনার যদি তাকে নোটিশ পাঠাতে চায়, তবে নোটিশ যাবে আসল স্ত্রীর বাসায়। স্ত্রী রেগে গিয়ে বলবে—"ঐ পাপিষ্ঠের মুখ আমি দেখতে চাই না, নোটিশ ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলো!" ব্যস, নোটিশ গায়েব! এদিকে প্রেমিকাকে উপহার দেওয়া হিরের নেকলেস আর গাড়ির তো কোনো ট্যাক্স ফাইলই নাই। কারণ পরকীয়া তো আর ব্যাংকের স্টেটমেন্টে লেখা থাকে না যে—"ডেবিট: প্রেমিকার শপিং বাবদ ৫০ হাজার টাকা!" এটা তো সম্পূর্ণ "ক্যাশ অন ডেলিভারি" আর অন্তরের লেনদেন!
বাস্তব কদম আলী: ধুর ভাই! তুমি তো পুরা রসালো আলাপ শুরু করলা। কিন্তু আমার এই পাঁচটা ফ্ল্যাটের কী হবে? আমি তো আর চার-পাঁচটা বিয়ে করতে পারমু না, আর এই বয়সে পরকীয়া করতে গেলে আমার আসল বউ ঝাড়ু নিয়া তাড়া করবে!
এলিয়েন কদম আলী: আরে কদম ভাই, তুমি তো আস্ত একটা বোকা! তুমি একটা কাজ করো। এই পাঁচটা ফ্ল্যাটের চারটা চারটা কাল্পনিক প্রেমিকার নামে বরাদ্দ দেখাও। কাগজে লেখো—"হৃদয় ভাঙার ক্ষতিপূরণ বাবদ ফ্ল্যাট হস্তান্তর।" দেখবা, এনবিআর (NBR)-এর কর্মকর্তারাও কনফিউজড হয়ে যাবে যে এটা "ক্যাপিটাল গেইন" নাকি "লাভ গেইন"!
বাস্তব কদম আলী: ধুর পাগল! বাংলাদেশে এখন ২০২৬ সালের বাজেট চলছে। এখানে লাভ-ক্ষতির চেয়ে ট্যাক্স আদায়টাই আসল। কিন্তু বুকটা ফেটে যায় ভাই, আমরা যারা সৎভাবে ট্যাক্স দিই, আমাদের প্রতিটা টাকার হিসাব দিতে হয়। আর যারা দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করতেছে, কিংবা চারটা বউয়ের পেছনে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ওড়াচ্ছে, তাদের বেলায় সব মাফ?
এলিয়েন কদম আলী: ঠিক বলছ কদম ভাই। এই পরকীয়ার রসালো আলাপের আড়ালে এটাই তো আসল তিতা সত্য। তোমাদের এই পৃথিবীতে সৎ মানুষেরাই খাঁচায় বন্দী হয়, আর অসৎরা পরকীয়ার ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। তবে মন খারাপ কইরো না। এই বাজেটের ট্রিপল ট্যাক্সেশনের বিরুদ্ধে মানুষ যেভাবে সোচ্চার হইতাছে, ফেসবুক কাপাইয়া পোস্ট দিতাছে, সরকার হয়তো এই অন্যায্য নিয়মটা বদলাইতেও পারে।
বাস্তব কদম আলী: দোয়া করো ভাই। জমিটা আমার বহু সাধের। ফ্ল্যাটগুলো বুঝা পাইলে ভাবছিলাম শান্তিতে ঘুমামু।
এলিয়েন কদম আলী: শান্তিতে ঘুমাও কদম ভাই! আর যদি বেশি চাপ দেয়, তবে আমার এই ইউএফও-তে উইঠা পইড়ো। আমাদের গ্রহে কোনো ট্যাক্স নাই, বাজেট নাই, আর পরকীয়া করলে এন্টেনা কেটে দেওয়া হয়! একদম সোজাসাপ্টা জীবন!
উভয়েই হো হো করে হেসে উঠল এবং এলিয়েন কদম আলী চাঁদের আলোর দিকে ডানা মেলে উড়ে গেল, রেখে গেল এক টুকরো হাসির রেশ আর বাস্তব কদম আলীর মনের একরাশ চিন্তা।