কদম আলী: ওহে ভিনগ্রহী বন্ধু, এনবিআর তো এখন ডিজিটাল হচ্ছে। তারা নাকি 'রিস্ক মডিউল' (Risk Module) বসিয়েছে। এটা দিয়ে কি তারা আমাদের মনের কথা বা পকেটের খবর আগেভাগেই জেনে যাবে?
এলিয়েন কদম আলী: (একটু হেসে) আরে না হে মাটির কদম আলী! এটা কোনো ম্যাজিক না, এটা হলো এনবিআর-এর সেই 'তৃতীয় চোখ' যা অনেকটা তোমাদের পৃথিবীর পরকীয়া ধরার ডিটেকটিভের মতো কাজ করে।
কদম আলী: (অবাক হয়ে) ডিটেকটিভ? বুঝিয়ে বলো তো! আর ভাই তুমি পরকীয়ার কি বুঝবে, থাক ভিন গ্রহে। আচ্ছা তুমি কি ছেলে না মেয়ে?
এলিয়েন কদম আলী: শোনো, রিস্ক মডিউল হলো এনবিআর-এর সিস্টেমের ভেতর একটা 'ডিজিটাল ফিল্টার'। এটা মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে:
১. প্রোফাইলিং (Profiling): সিস্টেম আগে থেকেই জানে একজন সৎ ব্যবসায়ীর চালচলন কেমন হয়। যে ব্যবসায়ী হঠাৎ করে তার ইনপুট-আউটপুট বা বিক্রির হিসাবে জগাখিচুড়ি পাকায়, সিস্টেম তখনই তাকে 'রেড সিগনাল' দিয়ে মার্ক করে রাখে। অনেকটা এমন বউ যদি হঠাৎ দেখে স্বামী প্রতিদিন রাত ১২টায় অফিস থেকে ফিরছে, তখন যেমন সন্দেহ বাড়ে!
২. অ্যানোমালি ডিটেকশন (Anomaly Detection): ধরো, তোমার পাশের দোকানের আয় হু হু করে বাড়ছে কিন্তু সে ভ্যাট দিচ্ছে না, আর তুমি ঠিকঠাক দিচ্ছ। রিস্ক মডিউল তখন তার খাতা আর তোমার খাতা মিলিয়ে দেখবে। যখনই দেখবে 'দাঁড়ি-কমা' মিলছে না, তখনই সিস্টেম বলবে— "ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!"
৩. সিলেকশন ফর অডিট (Automatic Selection): আগে অডিট করার জন্য এনবিআর অফিসাররা লটারি করতো বা চেনা মুখ দেখে ধরতো। এখন এই মডিউল নিজে থেকেই বলে দেয়— "এই ১০ জন ব্যবসায়ীকে ধরুন, এদের হিসাবে পরকীয়ার গন্ধ আছে!"
আর পরকীয়ার কথা আমি না বুঝলেও তোমাদের সমাজের অবস্থা দেখে সেটা বোঝা আমার দরকার নাই। আচ্ছা, পরকীয়ার আনন্দ তোমরা ভোগ করলা, সাফার করে সন্তানেরা….
কদম আলী: (মাথা চুলকিয়ে) তার মানে রিস্ক মডিউল হলো সিস্টেমের সেই ডাক্তার যে বিনা রক্তপাতেই বলে দিচ্ছে কার লিভারে চর্বি জমেছে?
এলিয়েন কদম আলী: একদম ঠিক! এটা অনেকটা জ্যোতিষীর মতো, কিন্তু হাত দেখে না, দেখে তোমার ই-রিটার্ন আর ট্রানজ্যাকশন ডাটা। এর উদ্দেশ্য হলো
যিনি সৎ, তাকে যেন অফিসাররা বিরক্ত না করে; আর যিনি 'রাজস্ব পরকীয়া' করছেন, তিনি যেন সিস্টেমের জালে ধরা পড়েন।
কদম আলী: তো জোকিংলি যদি বলি, এটা কি এনবিআর-এর জন্য 'আয়না ঘর'? আর পরকীয়ায় সাফার হয় সন্তান জানতে চাইলে না, এটা অনেকটা ভ্যাট এর মতো যা কিছু হোক সব দিবে ভোক্তা।
এলিয়েন কদম আলী: হা হা! বলতে পারো। তবে এই আয়নায় শুধু ফাঁকিবাজদের চেহারা ভেসে ওঠে। যারা তথ্যের স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী, তাদের জন্য রিস্ক মডিউল হলো আশীর্বাদ। আর যারা ভাবছে অন্ধকার ঘরে ফাঁকি দেবে, তাদের জন্য এটা হলো সেই লাইট যা জ্বললেই চোর ধরা পড়ে!
আমি ভেবেছিলাম তোমার মাথায় বুদ্ধি নাই, যে ভাবে সন্তানদের সাথে ভোক্তা মিলিয়ে দিলে তাতে তো মনে হচ্ছে তোমরা মানুষেরা একজন অন্যায় করে, ফল ভোগ করে অন্যজন।