যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ইস্যুতে এরই মধ্যে দুই দফা দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। তৃতীয় দফায় আবারো আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে আজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অবস্থানপত্র পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো নিয়ে গত বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই ইস্যুতে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভা শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবার মতামত নিয়ে খসড়া চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছি। এটি শেষ করতে আমাদের একদিন লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুল্ক আরোপসংক্রান্ত যে ডকুমেন্ট দিয়েছিল সেটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই তাদের সঙ্গে আমাদের মিটিং করার কথা ছিল। কিন্তু তারা গত বুধবারের দিকে আমাদের একটি ই-মেইল দিল যে তোমরা সময় না নিয়ে এসো না, আমাদের অনেক লোক নিয়ে বসতে হয়, প্রস্তুতির ব্যাপার থাকে। আমরা তাদের কাছে মিটিংয়ের জন্য সময় চেয়ে কাল (আজ) ই-মেইল করব। পরবর্তী সময়ে তারা সময় দিলে সম্ভবত আমরা সরাসরি গিয়েই তাদের সঙ্গে মিটিং করব।’
শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর জন্য অনেক প্রক্রিয়া আছে। আমাদের আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে, উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন লাগবে। ফলে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আরো পরে আসবে।’
তারা এর আগে কখনো এ ধরনের বেকায়দায় পড়েননি—ব্যবসায়ীদের এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও তো কখনো এ রকম বেকায়দায় পড়েনি। বিশ্ব এর আগে কয়বার এ ধরনের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের মধ্যে পড়েছে? একবারও না। ফলে পরিস্থিতি এক্সট্রা অর্ডিনারি এটি বুঝতে হবে। আমাদের মূল অবস্থানপত্র তো দিয়ে দিয়েছি। এখন কিছু আছে যেগুলো দেশভিত্তিক সুনির্দিষ্ট, যেমন আমাদের দেশের জন্য যা সেটি চীনের জন্য না, ভিয়েতনামের জন্য না, ভারতের জন্য না।’
দরকষাকষির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর এখনো ৩৫ শতাংশ শুল্কের খড়্গ ঝুলছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের তরফ থেকে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক যতটুকু সম্ভব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ এগ্রিমেন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের কারণে চুক্তির শর্তগুলোর বিষয়ে যদিও সরকার খোলাখুলি কোনো কথা বলছে না। তবে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তিতে শুল্ক ইস্যু ছাড়াও অনেক উপকরণ রয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। চুক্তির সব বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেও খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় সরকার জানিয়েছে, যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তার ৮০-৮৫ শতাংশের বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছে। বাকি ১৫-২০ শতাংশ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা যাবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করবে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আজ অবস্থানপত্র পাঠানো হবে। আর চুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। বাংলাদেশের প্রস্তাবে তারা সন্তুষ্ট হলে শিগগিরই চুক্তি হতে পারে।