Vatbondhu News
প্রকাশ : Apr 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ব্যবসায়ী, এনবিআর ও পরকীয়া: একটি রাজস্ব-মনস্তত্ত্ব

মো: আলীমুজ্জামান 
লিড কনসালট্যান্ট টিআরসি 
মেম্বার - ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাট এসোসিয়েশন 

সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে—এমন প্রবাদ আমরা সবাই জানি। কর্পোরেট জগতে বা ব্যবসার আঙিনায় সংসার’ হলো ব্যবসায়ী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) তবে এই সংসার সুখের হয় ব্যবসায়ী নাকি এনবিআর এর কারণে সেটা বোঝা কষ্টকর। পারিবারিক সংসার ও এনবিআর এর সংসার তৈরির একটা বিশাল মিল হল কোনটাই নিবন্ধন ছাড়া বৈধ হয় না। তাহলে বলা যায় দুইটাই আইনগত সম্পর্ক তবে চুক্তির শর্ত ভিন্ন। আবার উভয় ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে জন্ম হয় পরকীয়া ও দাবি নামা। 

পারিবারিক জীবনে পরকীয়া যেমন গোপনে চলে সাময়িক শান্তির আশায়, ঠিক তেমনি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয় এক কায়দায় সাময়িক অধিক লাভের আশায়। অতিসংগোপনে চালানো বিষয় উভয়ই মনে করে সত্য কোন দিন সামনে আসবে না কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস সত্য সামনে আসে। উভয় ক্ষেত্রে ধরা খাওয়ার উৎস এক ও অভিন্ন সেটা হলো সন্দেহ এবং ধরার জন্য উভয় ক্ষেত্রেই ফাঁদ পেতে তারপর ধরতে হয়। 

বৈবাহিক সম্পর্ক ও এনবিআর এর সাথে এত মিল, প্রথমে পারিবারিক বিচার বা কমিশনারের নিকট দেন দরবার। যদি পারিবারিক ও কমিশনারের দেন দরবারে আপোষ রফা হলো সেটার স্থায়িত্ব উভয় ক্ষেত্রেই নির্ভর করে আবার সেই আন্ডারস্ট্যান্ডিং চুক্তির শর্ত মেনে চলা। আবার সেই ক্ষণিকের শান্তি বা অধিক লাভের আশায় শর্ত ভঙ্গ করবে। এবার কিন্তু দেন দরবারে কাজ হবে না, সরাসরি কেস। উভয় ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় প্রমাণের। তবে এখানে সামান্য পার্থক্য হল একটার চাক্ষুষ প্রমাণ আর অন্য টার দলিলাদি।  যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাহলে জরিমানা হিসাবে বিবাহ বিচ্ছেদ বা দাবিকৃত অর্থ সুদ সহ দেওয়া। 

সেটাতে কোন সংক্ষুব্ধ হলে উভয় ক্ষেত্রে যেতে হয় নির্ধারিত কোর্টে, তবে বৈবাহিক সম্পর্ক এ অবস্থায় গেলে এক ছাদের নীচে থাকা সম্ভব নয়। রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে আপনি বাবস্যা চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে এই না থাকা ও বাবস্যা চালিয়ে যাওয়ার মাসুল কিন্তু দুই রকম প্রথম টাতে পাওয়াকৃত অর্থ দিয়ে মাফ কিন্তু রাজস্বের ক্ষেত্রে কেসে হারলে দাবিকৃত অর্থের সাথে সুদ ও জরিমানা পরিশোধ করতে হয়। এটা হল এক ছাদের নীচে না থাকা ও চালিয়ে যাওয়ার সুফল বা কুফল। 

দুই সম্পর্কের উভয় পক্ষই জানে কোন না কোন দিন ধরা খাবে এবং এর পরিণাম ভয়াবহ, তারপরও কি কোনটা থেমে আছে? তবে উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ কারণ সংসার ও অর্থনীতির উন্নয়ন হবে না কোনটা বাদ দিলে। আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে কোন সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত প্রতিপালন করা। এনবিআর যে ভাবে বাবসায়ীকে চোর ভাবে, তেমনি আপনি যদি পরকীয়ার সন্দেহ আনেন তাহলে কোন দিন বিশ্বাস তৈরি হবে। 
 
এর অর্থ হল উভয় সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস থাকা প্রথম ও প্রধান শর্ত। ন্যায় বিচারের প্রথম ও প্রধান শর্ত হল নিরপেক্ষ থাকা, পুলিশ ধরলেই আসামি না তেমনি কোন ছেলে বা মেয়ের সাথে ঘুরলেই পরকীয়া না। নিরপেক্ষ অবস্থান তৈরি করতে হবে যদি সঠিক রাজস্ব আদায় ও সংসার সুখের জন্য। শুরুতে লেখা কথাটা পুরুষ শাসিত সমাজের জন্য প্রযোজ্য, তেমনি একক এনবিআর চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার হল জমিদারের খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সভ্যতার এই যুগে একক রমণী যেমন সংসার সুখের হয় না তেমনি একক ভাবে এনবিআর এর চাপিয়ে দেওয়া শর্ত ব্যবসায়ী মানবে না।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভ্যাটবন্ধু নিউজ

1

আরও ৯টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে আলু আমদানির অনুমতি

2

বিএসইসির পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চায় ডিবিএ

3

মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার

4

বিমানের টিকেট থেকে রাজস্ব বাড়াতে নতুন অধ্যাদেশে চূড়ান্ত অনুম

5

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও অপারেশনাল ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করতে আগ্রহ

6

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

7

পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি: ড. ফরহিনা

8

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

9

সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বাড়ল আরও ২ মাস

10

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার দেবেন ইলন

11

আমেরিকার ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ কানাডার

12

পুতিন-কিমের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

13

ভারত থেকে কাঁচা মরিচ এলো ৮ মাস পর

14

অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব

15

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

16

ভারতের লোকসভায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিল উত্থাপন: কঠোর শাস্তি

17

ভ্যাট কন্সালটেন্ট কার্যক্রম ও গুরুত্ব

18

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

19

দুর্নীতির জালে বিএসইসির ৪ বিভাগ

20