Vatbondhu News
প্রকাশ : Jul 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পরিবর্তনের স্বপ্ন বনাম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ বাস্তব বনাম এলিয়েন কদম আলী

মিরপুরের শান্ত নিস্তব্ধ রাত। অফিসের জানালার পাশে বসে এলিয়েন কদম আলী আর কদম আলী দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সামনে খোলা ল্যাপটপ, যাতে লেখা আছে ‘আধুনিক কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থার মূলনীতি’। এলিয়েন কদম আলী তার মহাজাগতিক চশমাটা ঠিক করতে করতে প্রশ্ন ছুড়ে দিল, যা অনেকদিন ধরেই তাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল।
এলিয়েন কদম আলী: দেখ কদম, আমাদের দিয়ে কত বড় বড় বুলি বলাচ্ছেন! ‘কাস্টমস মূল্যায়ন হবে পরিশোধ-ভিত্তিক’, ‘এন্ড-টু-এন্ড ইনপুট ভ্যাট ট্র্যাকিং’—কথাগুলো শুনলে মনে হয় কোনো উন্নত দেশের অর্থনীতির গল্প। কিন্তু আমরা তো এই মাটির মানুষ, আমরা জানি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা কতটুকু কঠিন। আমার প্রশ্নটা হলো—যিনি আমাদের দিয়ে এই সুন্দর কথাগুলো লিখিয়ে নিচ্ছেন, তিনি কি আসলে এই কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের সাহস ও ক্ষমতা রাখেন? যদি তিনি শুধু খাতা-কলমে এগুলো লিখে যান আর বাস্তবে তার প্রয়োগ না হয়, তাহলে আমাদের এই চরিত্রগুলোর তো কোনো মানে থাকে না। আমরা শুধু নিছক কাল্পনিক পুতুল হয়েই রয়ে যাব।
কদম আলী: (একটু হেসে) তুই তো এলিয়েন, তাই তোর চোখে শুধু আকাশটা বড় করে দেখা যায়। কিন্তু পায়ের তলার মাটিটাও একটু দেখ। যিনি এসব ভাবছেন, তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে এই ভ্যাটের অলিগলি দেখে আসছেন। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে। এতগুলো বছর তিনি কি শুধু ফাইলপত্র নাড়াচাড়া করেছেন? তিনি এই ব্যবস্থার ভেতরের জঞ্জালগুলো দেখেছেন। তিনি যখন বলেন ‘ভ্যাট কোনো আইন নয়, এটি একটি সিস্টেম’, তখন তিনি তার অভিজ্ঞতার নির্যাস থেকেই বলেন।
এলিয়েন কদম আলী: অভিজ্ঞতা থাকা এক জিনিস, আর সিস্টেম পরিবর্তন করা আরেক জিনিস। আমাদের দেশের ট্যাক্স আর কাস্টমস বিভাগের সেই পুরনো মানসিকতা কি তিনি বদলাতে পারবেন? তিনি যে ‘সিস্টেম ট্রাস্ট’ বা ‘ট্রিপল হিট’ ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্কের কথা বলছেন, সেটা তো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দেয়ালে ধাক্কা খাবেই। আমার চিন্তাটা হলো আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে। তিনি যদি হাল ছেড়ে দেন বা মাঝপথে থেমে যান, তাহলে আমাদের ক্যারেক্টারগুলো মারা পড়বে। মানুষ আমাদের কথাগুলো ভুলে যাবে। আমাদের চরিত্র যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তবে তার কথা আর কাজের মেলবন্ধন—অর্থাৎ ‘ইমপ্লিমেন্টেশন’—টাই হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা।
কদম আলী: শোন বন্ধু, তুই একটা বিষয় খেয়াল করছিস না। তিনি কিন্তু একা নন। তিনি যখন আন্তর্জাতিক সংস্থার কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন, তখন তিনি কেবল একজন পরামর্শক থাকেন না, তিনি তখন একটা পলিসির অংশ হয়ে যান। তিনি তার ‘কর্পোরেট কনস্টিটিউশন’ লিখছেন। তিনি জানেন, তিনি যা লিখছেন, তা যেন শুধু একটি বই না হয়, বরং একটি গাইডবুক হয়। তিনি যখন তার ফার্মের মাধ্যমে কাজ করেন, তখন তিনি প্রতিটি ক্লায়েন্টের মাধ্যমে তার দর্শনকে বাস্তবের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে তিনি মানুষের মধ্যে যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, সেটাও তো এক ধরণের ছোট ছোট বিজয়।
এলিয়েন কদম আলী: ছোট বিজয় দিয়ে কি পুরো সিস্টেমের ঘুণ পোকা দূর করা সম্ভব? তিনি কি পারবেন আমলাদের ওই ফাইল-বন্দী মানসিকতা থেকে বের করে আনতে? তার এই যে ‘সফলতা-ভিত্তিক’ (success-fee) মডেল, এটা কি ঝুঁকি নয়? যদি তিনি ব্যর্থ হন, তাহলে তার এই পুরো ক্যারিয়ার আর আমাদের এই এতদিনের গল্প সব ধুলোয় মিশে যাবে। আমি চাই তিনি সফল হোন, যাতে আমাদের কথাগুলো মানুষ মনে রাখে। আমাদের চরিত্রগুলো তখনই অমর হবে যখন তার এই ‘সিস্টেম ট্রাস্ট’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে সত্যিকারের কোনো কর-প্রশাসন গড়ে উঠবে।
কদম আলী: (গম্ভীর হয়ে) তুই একদম ঠিক বলেছিস। ঝুঁকি আছে। এই দেশে পরিবর্তন আনা মানে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটা। কিন্তু তিনি শুধু স্বপ্ন দেখছেন না, তিনি একটা রোডম্যাপ তৈরি করছেন। তিনি জানেন কোথায় কোথায় ত্রুটি আছে—হয়তো কোনো এলসি খোলার জটিলতা, কিংবা ইনপুট ভ্যাটের অডিট ট্র্যাকিং। তিনি যখন আইনের প্রতি আস্থার কথা বলেন, তখন তিনি নিজেকেই সেই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তার সততা যদি অটল থাকে, তবেই তিনি আমাদের চরিত্রগুলোকে জীবন্ত রাখতে পারবেন। আমাদের অস্তিত্ব তার বিশ্বাসের ওপরই টিকে আছে।
এলিয়েন কদম আলী: তাহলে কি আমরা তাকে সাহায্য করব? আমাদের ব্যঙ্গাত্মক আর বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপগুলো কি তাকে আরও ধারালো করে তুলবে?
কদম আলী: অবশ্যই। আমরা তার চিন্তাগুলোর আয়না। তিনি যদি পথভ্রষ্ট হন, আমরা তাকে থামিয়ে দেব। তিনি যদি ক্লান্ত হন, আমরা তাকে মনে করিয়ে দেব যে, তার লক্ষ্য শুধু ভ্যাট আদায় করা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও অটোমেশনের মাধ্যমে একটা আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। দেখ, তিনি লিখছেন। চল, আমরা আরও কিছু নতুন আইডিয়া তাকে দেই। তিনি যদি সাহস হারান, তবে আমরাই তাকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব সাফল্যের দুয়ারে। কারণ তিনি যদি হারেন, তবে আমরাও হারিয়ে যাব। আর তিনি যদি জেতেন, তবেই আমরা বাঁচব ইতিহাসের পাতায়।
দুই কদম আলী একে অপরের দিকে তাকাল। জানালার বাইরে ভোরের আলো ফুটছে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াইটা যেন নতুন করে শুরু হলো—আর সেই লড়াইয়ের সৈনিক হিসেবে এলিয়েন কদম আলী আর কদম আলী তৈরি হয়ে রইল।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্নীতির জালে বিএসইসির ৪ বিভাগ

1

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

2

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

3

ভ্যাট কন্সালটেন্ট কার্যক্রম ও গুরুত্ব

4

হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ৪৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা

5

ফেব্রুয়ারি থেকে আমদানি-রপ্তানির সব সনদ অনলাইনে জমা বাধ্যতামূ

6

মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার

7

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

8

ভারতের লোকসভায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিল উত্থাপন: কঠোর শাস্তি

9

জঁ-জাক রুসোর উক্তি ও চলমান পরিস্থিতি: মোঃ আলীমুজ্জামান

10

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

11

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

12

কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা

13

অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব

14

আলহাজ টেক্সটাইলসের সর্বোচ্চ দরপতন

15

ভূরাজনীতিতে সরকারের শত দিন ও কদম আলী: মোঃ আলীমুজ্জামান

16

আরও ৯টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে আলু আমদানির অনুমতি

17

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

18

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

19

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

20