মহাকাশের কোনো এক অদ্ভুত সবুজ গ্রহ থেকে সিগন্যাল ট্র্যাক করতে করতে সোজাসুজি ধানসিঁড়ি নদীর পাড়ে এসে ক্র্যাশ ল্যান্ড করেছে এলিয়েন কদম আলী। তার গায়ে জোনাকির মতো আলো জ্বলছে, তিনটে চোখ আর পিঠে একটা ফ্লাস্কের মতো ডিভাইস। আর ঠিক তার সামনে লুঙ্গি পরে, মুখে বিড়ি গুঁজে বাঁশের লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের মোড়লপাড়ার আসল বাস্তবের কদম আলী।
বাস্তব কদম আলী: (চোখ গোল গোল করে বিড়ির ধোঁয়া উড়িয়ে) এইডা আবার কোন ভিনদেশি চ্যাংড়া রে বাবা! দেখতে তো আস্ত একটা তেলাপোকা-কুমিরের শংকর মনে অয়। এই ব্যাটা, তুই কোন চরের মাল? আমার জমির ওপর মহাকাশযান নামাইছিস ক্যান? খাজনা দিবি নাকি থানা পুলিশ করব?
এলিয়েন কদম আলী: (বুক থেকে একটা অদ্ভুত নীল আলো মিটমিট করে জ্বালিয়ে, গলার স্পিকার ফোন অন করে ধাতব আওয়াজে) কু...শল...বিনিময়...বন্ধ কর, হে পৃথিবীর আদিম প্রাইমেট! আমি গ্যালাক্সি ২৭-এর উচ্চপ্রশিক্ষিত সুপার-ইন্টেলিজেন্ট প্রাণী, এলিয়েন কদম আলী। আমাদের গ্রহে তোদের মতো ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার কোনো সিস্টেম নাই, এক ক্লিকেই সব ট্যাক্স কাটে নেয়!
বাস্তব কদম আলী: (খিকখিক করে হেসে) ভ্যাট? হা হা হা! ভ্যাট নিয়া আমার লগে কথা কইতে আইছিস? আমার কর্পোরেট কনসালটেন্ট বন্ধু সাব্বির ভাই আমারে শিখাইছে—ভ্যাট আইন ২০১২ অনুযায়ী ট্রানজেকশন ভ্যালু হইলো বাই ডিফল্ট ভ্যাট ইনক্লুসিভ! দোকানদার আমার থেইক্যা আলাদা ভ্যাট চাইলেই আমি ছাতা দিয়া তার কাউন্টার ভাঙি। আর তোরা শুনি আকাশে উড়োস, তোদের গ্রহে কি কোনো পরকীয়ার কেস নাই নাকি?
এলিয়েন কদম আলী: (তিনটে চোখ পিটপিট করে) পরকীয়া? সেটা আবার কোন মহাজাগতিক কসমিক এনার্জি? আমাদের গ্রহে তো প্রোডাকশন হয় ক্লোনিং মেশিনে। সেখানে মন ভাঙার বা অন্য গ্রহের এলিয়েন ভাবির সাথে লুকিয়ে চ্যাটিং করার কোনো সুযোগ নাই। তোদের এই দুনিয়ায় এইডা কি খুব পপুলার টেকনোলজি নাকি রে ভাই?
বাস্তব কদম আলী: (কান চুলকাতে চুলকাতে হাসতে হাসতে গদগদ হয়ে) আরে মিয়া, বোঝো না কেন! এই দুনিয়ায় আসল রোমান্স তো পরকীয়ার মাঝেই! ধরো, বউ ঘরে ভাত বাড়িয়া রাখছে খাসির মাংস দিয়া, আর তুমি রাতের বেলা মোবাইল টিপো আর বিমোহিত গলায় কও—"তোমার ওই ফেসবুকে দেওয়া কমেন্টটা আমার বুক চিড়ে গেছে, ওগো নীলপদ্ম!"—এই যে থ্রিল, এই যে বুকে ধুকপুকানি, এইডা কি আর বউয়ের সাথে ভাতের পাতে বইয়া পাওয়া যায়? বউয়ের লগে তো খালি হিসাব চলে—কে কত টাকা শপিং করল আর কার বাপের বাড়ি থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আইলো!
এলিয়েন কদম আলী: (তার সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট গরম হয়ে লাল বাতি জ্বেলে) ডেটা ওভারলোড! ডেটা ওভারলোড! অর্থাৎ তোদের পৃথিবীতে প্রেম মানেই হলো রিস্ক ইনভেস্টমেন্ট এবং লোকসানের বিজনেস? তবুও তোরা এইডা করিস কেন?
বাস্তব কদম আলী: (গায়ের চাদরটা ঠিক করে একটা ফিলোসফিক্যাল ভাব ধরে) আরে পাগল! জীবন তো একটা গোলকধাঁধা। এনবিআর আইসা যেমন ৩৮ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট তোলার জোড়াতালি মারে, আমরা মানুষগুলাও তেমনি সংসার সামলাইতে গিয়া সারাজীবন একটা জোড়াতালির পরকীয়া আর ইমোশনাল ফাঁকিবাজি চালাই! বউ ভাবে আমি বাজারে গেছি, আর আমি ভাবি যদি পাশের বাসার ভাবির সাথে একটু গ্রোসারি শপিংয়ের ব্যাগে মোতালেব চাচার দোকানের দুই কাপ চা খাওয়া যাইত, তবে জীবনটা আরেকটু রঙিন অইত!
এলিয়েন কদম আলী: (পকেট থেকে একটা লেজার গান বের করতে করতে) তোর এই পৃথিবীর প্যাঁচ আমি বুঝলাম না, বাস্তবের কদম আলী। তোদের এই ট্যাক্সের মারপ্যাঁচ আর পরকীয়ার ডাটা প্রসেস করতে গিয়া আমার মহাকাশযানের ব্যাটারি ডাউন হইয়া গেছে। তোরে একটা বুদ্ধি দিই—এইসব ধান্দাবাজি বাদ দিয়া আমার সাথে গ্যালাক্সি ২৭ এ চল। ওইখানে কোনো বউ নাই, কোনো ভ্যাট নাই, খালি শান্তি আর শান্তি!
বাস্তব কদম আলী: (মুচকি হেসে লাঠিতে ভর দিয়ে) দূর মিয়া! ওই নিস্তব্ধ গ্রহে গিয়া কিচ্ছু ভালো লাগবে না। এখানে প্রতিদিন সকালে বউয়ের বকা খাওয়া, দুপুরে ভ্যাট নিয়ে টেনশন করা, আর বিকেলে রকেটের দোকানে বইসা জিলিপি খাইতে খাইতে পাশের বাসার ভাবির দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর যে থ্রিল—এইডা মহাকাশের কোনো এলিয়েন গ্রহের মেশিন দিয়া জীবনেও মাপা যাইব না! যাও বাপধন, তোমার স্পেসশিপ ঠিক করো গে যাও!