Vatbondhu News
প্রকাশ : May 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

এলিয়েন কদম আলী পৃথিবীতে এসেছে পরকীয়ার খোঁজে

গ্রামের এক বিশাল বটগাছের নিচে একা একা বসে বিড়ি টানছিলেন আমাদের চেনা-জানা বাস্তব ‘কদম আলী’। পরনে লুঙ্গি আর গায়ে একটা মলিন স্যান্ডো গেঞ্জি। হঠাৎ আকাশ থেকে বিকট শব্দে একটা থালার মতো যান নেমে এলো। ধোঁয়া উড়িয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে এলো ঠিক কদম আলীর মতোই দেখতে, কিন্তু গায়ের রঙটা একটু সবুজ আর মাথায় দুটো এন্টেনা ওয়ালা এক জীব—‘এলিয়েন কদম আলী’।
বাস্তব কদম আলী ভিরমি খেতে খেতে বেঁচে গেলেন। কিন্তু কদম আলীর কলিজা তো ছোট নয়! নিজের প্রতিরূপ দেখে ভয়ের চোটে বিড়ির আগুনটা লুঙ্গিতে ছ্যাঁকা লাগার আগেই সামলে নিয়ে তিনি কথা শুরু করলেন।
বাস্তব কদম আলী: (চোখ কচলাতে কচলাতে) ওরে বাবারে! আইজকা কি মেন্দা ভূতের আসর হইল নাকি? তুই কেডারে ভাই? আমার মতন চেহারা, কিন্তু মাথায় আবার দুইটা ডিস এন্টেনা লাগাইছস কেন? ডিশের বিল দেস নাই বইলা ক্যাবল অপারেটরে মাথায় ফিট কইরা দিছে?
এলিয়েন কদম আলী:(রোবোটিক কিন্তু খ্যামটা নাচের ভঙ্গিতে) আরে না, হে বাস্তব কদম ভাই! আমি হইলাম গ্যালাক্সি এক্স-২৩ থেকে আসা তোমার ‘ভার্চুয়াল এবং কসমিক’ প্রতিরূপ—এলিয়েন কদম আলী। মহাবিশ্ব ঘুরে তোমার এই বাংলায় ল্যান্ড করলাম। কথায় বলে না—চেনা বামুনের পৈতা লাগে না! দূর থেকে দেখেই চিনছি তুমিই আমার আসল খাসিলতের দোসর।
বাস্তব কদম আলী:(লুঙ্গিটা একটু কষে বেঁধে) খাসিলত মানে? আমি হইলাম এই তল্লাটের খাঁটি কদম আলী। ট্যাক্স-ভ্যাটের বাজারে ঘিলু পইচা এমনেই মাথা গরম, তার মধ্যে তুই আইছস তামাশা করতে। তা তোর এই সবুজ চামড়া নিয়া আমার দেশে কী মনে কইরা?
এলিয়েন কদম আলী:(এন্টেনা দুটো একটু ঘুরিয়ে) আরে ভাই, আমাদের গ্রহে সব কিছু পারফেক্ট। কোনো ঝামেলা নাই। কিন্তু মনের মধ্যে কেমন জানি একটা উশখুশ ভাব। শুনলাম, পৃথিবীতে নাকি একটা দারুণ জিনিস আছে, যার নাম ‘পরকীয়া’। মনটা বড় আনচান করে ভাই! আমাদের গ্রহে তো সব রোবোটিক মেটিং। একটু প্রেমের লুতুপুতু স্বাদ নিতে আসলাম। তা তোমার এই তল্লাটের খবর কী?
বাস্তব কদম আলী: (জিভ কেটে) আস্তাগফিরুল্লাহ! তুই এলিয়েন হইয়া আমার কাছে আইছস পরকীয়ার তালিম নিতে? চোরের মন পুলিশ পুলিশ আর তোর মন দেখি উড়ু উড়ু! আরে মিয়া, পরকীয়া হইলো এমন এক মিষ্টি বিষ, যা খাইলে চুন খসলে গাল পোড়ে, আর ধরা খাইলে পিঠের চামড়া থাকে না। তা তোর মনে কার জন্য পিরিত জাগলো?

এলিয়েন কদম আলী:( চোখ টিপে, সবুজ গালে লজ্জার আভা ফুটিয়ে) আরে কদম ভাই, আসার পথে মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়া এক রূপসী এলিয়েন কন্যা ‘এলিনা’ যাচ্ছিল। তার চোখের ইশারায় আমার এন্টেনা শর্ট সার্কিট হয়া গেছে। কিন্তু সমস্যা হইলো, আমার ঘরে যে ‘এলিয়েনী’ বসে আছে, সে যদি টের পায় তবে আমার মহাকাশযান ক্রাশ করায়া দিবে। তাই একটু চোরের মতো মনটারে লুকায়া রাখছি। কথায় বলে না—যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা।ঘরের এলিয়েনীরে এখন আর ভালো লাগে না ভাই!
বাস্তব কদম আলী:(হেসে কুটি কুটি) ওরে আমার মজনু এলিয়েন রে! তোর দশা তো পুরা আমাদের দেশের ওইসব আমলা আর বড়লোকদের মতো, যারা ঘরের আসল বউরে ছ্যাঁকা দিয়া বাইরে ‘অপ্রদর্শিত’ পিরিত কইরা বেড়ায়। তুই তো দেখি পিরিতের বাজারেও ‘ব্ল্যাক মানি’ বা কালো আয় খুঁজতাছস! ঘরের বউ হইলো সাদা আয়—ট্যাক্স ফাইলে থাক বা না থাক, হিসাব পরিষ্কার। আর ওই মঙ্গল গ্রহের এলিনা হইলো তোর ‘কালো আয়’—উৎস নাই, কিন্তু দেখতে চকচকা! ধরা খাইলে বুঝবি—ঘরের শত্রু বিভীষণ কত প্রকার ও কী কী!
এলিয়েন কদম আলী:(এন্টেনায় সিগন্যাল ছেড়ে) আহা কদম ভাই, তুমি সবকিছুতেই ভ্যাট-ট্যাক্স আর হিসাব টানো কেন? পরকীয়ায় কি ট্যাক্স লাগে? মনের লেনদেনে আবার রসিদ কিসের? নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো, ঘরে ডাল-ভাত খাওয়ার চেয়ে মঙ্গল গ্রহের বিরিয়ানির সুবাস নেওয়া কি অপরাধ?
বাস্তব কদম আলী:(বিড়িটা ফেলে দিয়ে) অপরাধ না তো কী? পরকীয়া হইলো সেই ফাঁদ, যেখানে অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। তুই ভাবতাছস লুকুচুরি কইরা পার পাবি? মহাবিশ্বের সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকলেও বউদের যে ‘মেফিয়া ইন্টেলিজেন্স’ থাকে, তার কাছে তোর এন্টেনা কোনো কাজ করব না। ধরা যখন খাবি, তখন বুঝবি কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না। তোর ওই সবুজ চামড়া ডলে লাল বানায়া দিব ঘরের বউ।

এলিয়েন কদম আলী:(একটু ভয় পেয়ে বাস্তব কদমের কাছাকাছি এসে) তা কদম ভাই, তোমার অভিজ্ঞতা কেমন? তুমি তো মাটির মানুষ। তোমার ঘরে কি কোনো ‘আসমানী পিরিত’ উঁকিঝুঁকি মারে না? একটু পরামর্শ দাও, কেমনে বউরে ফাঁকি দিয়া মঙ্গল গ্রহের ওই সুন্দরীর সাথে একটু ‘স্পেস ডেটিং’ করা যায়?
বাস্তব কদম আলী:(দীর্ঘশ্বাস ফেলে) ওরে ভাইরে ভাই! নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে যাবো কোন দুঃখে? আমার ঘরের যে অবস্থা, সকালবেলা বাজারে গেলে ছটফটানি, বৈকাল বেলা ভ্যাটের চিন্তায় ছটফটানি। তার ওপর যদি পরকীয়ার ‘ট্যাক্স’ মাথায় চাপে, তবে তো আমার হার্ট অ্যাটাক নিশ্চিত। আমার বউ ‘একা’ যখন ঝাড়ু নিয়া দাঁড়ায়, তখন মনে হয় মহাবিশ্বের সব ব্ল্যাক হোল আমার সামনে হাজির। তুই আইছস আমার কাছে বুদ্ধি নিতে! নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা আমি নিজেই পিরিতের ময়দানে কাঁচা, তোরে কী শিখামু?
এলিয়েন কদম আলী:(মাথা চুলকে) ধুর! ভাবছিলাম মানুষ জাতটা বুঝি খুব সুখে আছে। দিনে একটা, রাতে আরেকটা মন নিয়া খেলে। আমাদের গ্যালাক্সিতে তো মন একটাই, পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করা যায় না। মানুষের দেখি মনের কতগুলা ফোল্ডার! একটা ঘরের বউয়ের নামে, একটা অফিসের সহকর্মীর নামে, আরেকটা আবার ফেসবুকের ইনবক্সে!
বাস্তব কদম আলী:(চোখ পাকিয়ে) হ, বাইরে থেইকা তো মনে হইব দূর দ্বীপবাসিনী, সুন্দর রূপসী! কিন্তু ভেতরে ঢুইকা দেখ, সব ভণ্ডামি। এই যে তুই পরকীয়ার লোভ করতাছস, এটা কিন্তু এক প্রকারের ‘দুর্নীতি’। যেমন মানুষ দুর্নীতি কইরা টাকা কামায়, তারপর সেইটা ধামাচাপা দিতে ‘কালো টাকা সাদা করার’ আইন খোঁজে; ঠিক তেমনি মানুষ পরকীয়া কইরা ধরা খাইলে নানা অজুহাতে নিজের চরিত্র ধুয়ে মুছে সাদা করতে চায়। কিন্তু ভাই, পাপের ঘড়া একদিন না একদিন পূর্ণ হয়ই। 

এলিয়েন কদম আলী:(তার যানের দিকে তাকিয়ে, এন্টেনা দিয়ে একটা বিপ বিপ শব্দ হলো) ওহ! আমার ঘরের বউ মনে হয় ট্র্যাক কইরা ফেলছে। স্পেস-ফোনে কল দিতাছে। সিগন্যাল তো খুব কড়া! এখন কী করি কদম ভাই? মঙ্গল গ্রহের এলিনার সাথে তো দেখাই হইলো না!
বাস্তব কদম আলী:(ঠাট্টা করে) ওই দেখ! চোরের দশ দিন, তো বউয়ের  এক দিন।তোর তো দশ দিনও পার হইলো না, এক দিনেই ধরা! যা, দৌড় দে। ঘরের বউয়ের সিগন্যাল যখন কড়া, তখন মহাকাশযান স্টার্ট দে। নাইলে এলিয়েনী এসে যখন তোরে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে, তখন মহাকাশেও মুখ দেখাইতে পারবি না। মনে রাখবি ঘর ভালো তো জগৎ ভালো। 
এলিয়েন কদম আলী:(তাড়াহুড়ো করে যানের দরজায় পা দিয়ে) ঠিক বলছ কদম ভাই। পরকীয়ার লোভ বড় বিষম লোভ। আসছিলাম একটু রোমাঞ্চ নিতে, কিন্তু তোমার কথা শুইনা আমার এন্টেনা সোজা হইয়া গেছে। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। আমি নিজের গ্রহেই ফিরে যাই। মঙ্গল গ্রহের এলিনা মঙ্গলেই থাকুক, আমার অমঙ্গল করার দরকার নাই!
বাস্তব কদম আলী: (হাত নেড়ে) হ, সাবধানে যা। আর যাওয়ার আগে শুইনা যা শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। ঘরে গিয়া বউরে এক তোড়া মহাকাশের ফুল দিয়া দিস, সব রাগ পানি হয়া যাইব। আর ভুলেও কখনো মানুষের মতো ‘কালো পিরিত’ সাদা করার ধান্দা করিস না!

এলিয়েন কদম আলী তার থালার মতো যানে উঠে বসলো। নিমেষেই এক তীব্র আলো আর ধোঁয়া ছেড়ে যানটি মহাশূন্যে মিলিয়ে গেল। বাস্তব কদম আলী আবার একটা নতুন বিড়ি ধরালেন, ধোঁয়া ছেড়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন আর বিড়বিড় করে বললেন, *"শালা এলিয়েন আসছিল পরকীয়া করতে! আমাগো দেশের মানুষেরা যে এই বিদ্যায় ডক্টরেট কইরা রাখছে, হেইডা ওরে কে বুঝাইব! তবে যাক, ঘরের বউয়ের ভয়ে যে ভাগছে, এইটাই মঙ্গল।"


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দ্বিতীয় দিনের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আলোচনা শেষ

1

ভ্যাট ব্যবস্থায় বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনের সমন্বয় জরুরি : ম

2

অজ্ঞতা ও রাজস্ব আইনের আগ্রাসন: মো: আলীমুজ্জামান

3

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

4

পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি: ড. ফরহিনা

5

আমদানি-রপ্তানির পণ্য খালাসে নতুন শর্ত দিয়েছে এনবিআর

6

সুপারশপে বাড়তি ভ্যাট দিতে হবে না

7

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

8

টেসলা কিনলেও রাস্তায় চালাতে পারবেন না ট্রাম্প

9

বিমানের টিকেট থেকে রাজস্ব বাড়াতে নতুন অধ্যাদেশে চূড়ান্ত অনুম

10

পুতিন-কিমের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

11

দুর্নীতির জালে বিএসইসির ৪ বিভাগ

12

আলহাজ টেক্সটাইলসের সর্বোচ্চ দরপতন

13

তেল, আটা-ময়দা, গ্যাসসহ কিছু পণ্যে ভ্যাট তুলে দিলো এনবিআর

14

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

15

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

16

জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস ক্ষতি করে কিনা তা প

17

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

18

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

19

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

20