নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্যবসায় সংবাদ | ঢাকা | রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে স্বচ্ছতা ও কর সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (কাস্টমস ও ভ্যাট উইং) সম্প্রতি প্রকাশিত এস.আর.ও নং ৩৪৮-আইন/২০২৫/৮০/কাস্টমস অনুযায়ী, এখন থেকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধাভোগী সব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট আইন ও বিধিমালা সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন ও ইন্টিগ্রেশন বাধ্যতামূলক
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বন্ড সুবিধা পেতে হলে প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই
• ভ্যাট নিবন্ধিত (BIN Holder) হতে হবে, এবং
• Integrated VAT Administration System (iVAS)-এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে।
কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন, মজুদ ও রপ্তানি—সব ধরণের লেনদেন iVAS সিস্টেমে অনলাইনে এন্ট্রি ও যাচাইযোগ্য করতে হবে, যাতে কাস্টমস ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষ সরাসরি নজরদারি করতে পারে।
ভ্যাট কমপ্লায়েন্স না থাকলে বন্ড সুবিধা বাতিল
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করবে, অথবা iVAS সিস্টেমে তথ্য দাখিল না করবে, তাদের বন্ড সুবিধা স্থগিত বা বাতিল করা যাবে।একই সঙ্গে ব্যাংক গ্যারান্টি বাজেয়াপ্ত ও কর-শুল্কসহ জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
কাঁচামাল ব্যবহারে ডিজিটাল মনিটরিং
বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাঁচামালের ব্যবহার ও উৎপাদন রিপোর্ট পরিশিষ্ট–১, ২ ও ৩ ফরমে অনলাইনে দাখিল করতে হবে।
কাস্টমস কমিশনার প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন বা অডিট করতে পারবেন। এতে করে অতীতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার — যেমন কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রির ঘটনা — রোধ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
শুধু রপ্তানিমুখী ও ভ্যাট-কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানই সুবিধাভোগীএই নতুন নিয়মে শুধুমাত্র রপ্তানিমুখী ও Industrial IRC ধারক প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধা পাবে।
অ-রপ্তানিমুখী, ট্রেডার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান —বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে ভ্যাট আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে কর-সুশাসনের কাঠামোর ভেতরেই পরিচালিত হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ভ্যাট কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত হলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি কমবে এবং রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
রপ্তানিমুখী শিল্প সংগঠনগুলো (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ইপিজেড অ্যাসোসিয়েশন) জানিয়েছে,
এই পদক্ষেপ সঠিক সময়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা বলছেন,ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে হলে iVAS ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ, টেকনিক্যাল সহায়তা ও দ্রুত ব্যাংক সংযোগ জরুরি।” তাদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি ‘স্বচ্ছ রপ্তানি চেইন’ তৈরির একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থায় নতুন করে দায়বদ্ধতা ও ডিজিটাল ট্রেসযোগ্যতা তৈরি হবে। ভ্যাট আইন ও কাস্টমস আইন একীভূতভাবে প্রয়োগ হলে রপ্তানিমুখী খাতে কর সুশাসন, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ—সব দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারের নতুন নির্দেশনায় রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য “ভ্যাট কমপ্লায়েন্স” আর ঐচ্ছিক নয় — এটি এখন বাধ্যতামূলক। এই নীতিমালা কার্যকর হলে বন্ড সুবিধার স্বচ্ছ ব্যবহার ও রাজস্ব সুরক্ষা দুটোই নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।