Vatbondhu News
প্রকাশ : Jul 2, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জঁ-জাক রুসোর উক্তি ও চলমান পরিস্থিতি: মোঃ আলীমুজ্জামান

ছবি: সংগ্রহীত

সকল মনীষীগণ মেধা, প্রজ্ঞা ও সাধনার দ্বারা যে সমস্ত বাণী রেখে যান, সেগুলো সর্বকালে সকল ধর্মের মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। যদি বোঝার ক্ষমতা আল্লাহ দেন। কথাগুলো সহজ, সরল ও চিন্তাশীলদের জন্য যেমন "বাস্তব জগতের চেয়ে চিন্তার জগৎ বিশাল" বাণীটির ন্যায়। চোখের সীমানার মধ্যে যা কিছু দেখা যায়, তা হলো বাস্তব জগৎ। আর চিন্তার জগৎ কতটা বিশাল, তা বুঝতে চিন্তাশক্তি ও ক্ষমতার প্রয়োজন। গণভবন, বঙ্গভবন কিংবা হোয়াইট হাউস—এসবই চিন্তার বিশালত্ব থেকে সৃষ্ট।



“প্রতিটি মানুষ জন্মের সময় নিষ্পাপ থাকে, কিন্তু পরিস্থিতি ও লোভের কারণে খারাপ হয়ে যায়।” জন্মের সময় মানুষের মধ্যে চেতনা বা স্বার্থের চিন্তা থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে লোভ ও চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। প্রথমে যা চাওয়া, পরে তার চেয়েও অধিক পাওয়ার লোভ জন্ম নেয়। যেমন—সরকারি চাকরি চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে সরকার হয়ে গেলে বলা হয়, “মানুষ জন্মে স্বাধীনভাবে, কিন্তু বাঁচে পরাধীনতায়।” আগে মানুষ স্বাধীনভাবে চাইতে পারলেও, পরে অন্যের চাওয়ার কাছে পরাধীন হয়ে যায়। আগে চলাফেরায় স্বাধীনতা থাকলেও, এখন প্রোটোকলের প্রয়োজন হয়।

 

“মানুষ কখনও অন্য মানুষের উপর কর্তৃত্ব ফলাতে পারে না।” এটি করতে গিয়ে পূর্বের প্রধানমন্ত্রী আজ দেশছাড়া। যাদের উপর কর্তৃত্ব ফলাতে চেয়েছিলেন, তারা বর্তমানে দেশের ক্ষমতায়। “প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয় না, আমাদের কর্মের ফল আমরা ভোগ করি।” পতিত সরকার অহংকার ও কর্মের ফল ভোগ করার মাধ্যমে প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছে। প্রকৃতি ছাত্রদের সম্মান দিয়েছে। কিন্তু এটি ধরে রাখতে দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি। যদি তারা দায়িত্বশীল না হয়, তবে কর্মের ফল ভোগ করতে হবে। চিন্তার জগৎ বিশাল হলে প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নেওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবের সীমাবদ্ধ জগতে আমরা কর্মফলের ভোগ করি। “আমি অন্যের থেকে উত্তম না হলেও, ভিন্ন রকম” হওয়ার চেষ্টা করি না।

 

“প্রকৃত সুখী হতে হলে অর্থ, ভালো রাঁধুনি, খাওয়ার রুচি ও হজম করার ক্ষমতা থাকতে হবে।” এ চারটির একটি কমতি থাকলে প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করা যায় না। বর্তমানে শেষ তিনটি না থাকলেও, প্রথমটির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ অর্থ উপার্জনকেই সুখী হওয়ার একমাত্র উপায় ভেবে দরবেশ থেকে সাধু সাজতে লজ্জা পাই না। অর্থ উপার্জনের নেশায় আমরা “দয়া অপেক্ষা প্রজ্ঞা উত্তম” কথাটি ভুলে যাই। ফলে বিশাল ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা অন্যের দয়ায় বাঁচার জন্য দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

 

“ভগ্ন শরীর মনকে দুর্বল করে দেয়।” বর্তমান উপদেষ্টারা বয়স ও শারীরিক সমস্যার কারণে অসুস্থ থাকেন। ফলে স্বমহিমায় মেধাবী ও সৎ হওয়া সত্ত্বেও মানসিক শক্তির অভাবে কঠোরভাবে রাজ্য পরিচালনা করতে পারছেন না। “অপেক্ষায় থাকা কষ্টকর হলেও এর ফল মধুর”—এই কথার প্রমাণ ছাত্রসমন্বয়কারীদের ধৈর্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকলেও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের অপেক্ষার মিষ্টি ফল বহুদিন ভোগ করার সুযোগ থাকবে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার

1

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

2

রফতানিতে বড় ধাক্কা

3

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

4

ভ্যাটবন্ধু নিউজ

5

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

6

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

7

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

8

৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি

9

সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বাড়ল আরও ২ মাস

10

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

11

পারিবারিক সঞ্চয়পত্র আর যৌথ নামে কেনা যাবে না

12

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক রাখলেন ট্রাম্প, ১ আগস্ট কার্য

13

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

14

শুল্ক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা চালু

15

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

16

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

17

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

18

কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা

19

জঁ-জাক রুসোর উক্তি ও চলমান পরিস্থিতি: মোঃ আলীমুজ্জামান

20