কদম আলী: বুঝলে ভাই ভিনদেশি খালাতো ভাই, দুনিয়ার সব গ্যাঁড়াকল বুঝলাম, কিন্তু বসের এই ‘বাম হাত’ আর ‘ডান হাত’ থিওরি মাথায় ঢুকেও পিছলে যাচ্ছে। ভ্যাটের আবার ডান-বাম কী? আমরা তো জানি ভ্যাট মানেই পকেট থেকে টাকা সোজা চলে যাওয়া!
এলিয়েন কদম আলী: হে ধূলিকণার মানব! তোমাদের বুদ্ধির রেডিয়াস বড্ড ছোট। আমাদের ‘গ্যালাক্সি-১৩’-এ ভ্যাট আইনকে বলা হয় ‘ব্ল্যাকহোল কোড’। তবে তোমার বসের বাণী গভীর। ‘লেফট’ মানে কী জানো? ওই যে তোমরা টেবিলের তলা দিয়ে, বাম হাত পিছন দিকে ঘুরিয়ে, ফাইলের ফাঁক দিয়ে যা করো—ওটাই হলো ‘লেফট হ্যান্ডেড ট্যাক্সেশন’!
*কদম আলী:* আরে ধুর! তুমিও বসের মতো ধাঁধা লাগাইলা। আরে মিয়া, field-এ যখন ভ্যাট অফিসার এসে হুঙ্কার ছাড়ে, তখন তো ভয়ে আমার ডান হাত-বাম হাত সব অবশ হয়ে যায়। তখন আইনের বইয়ের পাতা উল্টাতে গেলে মনে হয় আরবি আর হিব্রু একসাথে মিক্সড করে কেউ লিখে রাখছে।
এলিয়েন কদম আলী: ওখানেই তো ভুল! তোমাদের ওই ম্যানুয়াল সিস্টেমে ‘লেফট’ মানে হলো বিভ্রান্তি, জটিলতা, আর অন্ধকার। যখনই কোনো ব্যবসায়ী ভ্যাটের খাতা খোলে, সে ডান চোখ বন্ধ করে বাম চোখ দিয়ে শুধু অন্ধকারের ভূত দেখে। বস ঠিকই বলেছেন, এই ‘বাম হাতের কাজ’ বন্ধ করতে হবে।কদম আলী: বাম হাতের কাজ বন্ধ করলে তো পেটের ভাতও বন্ধ হওয়ার জোগাড় ভাই! এই যে মনে করো, একটা মূসক-৬.৩ ফরম পূরণ করতে গিয়ে যদি একটা দশমিক এদিক-ওদিক হয়, ব্যাস! আইন এসে বাম হাতে এমন এক চড় কষাবে যে ডান কান দিয়ে ধোঁয়া বের হবে।
এলিয়েন কদম আলী: এই জন্যই বস বলেছেন, ‘রাইট এ আসলে সমাধান আছে’। ‘রাইট’ মানে শুধু ডান হাত নয়, ‘Right’ মানে হলো সঠিক পথ, অর্থাৎ সিস্টেম ট্রাস্ট (System Trust)। যখন পুরো আর্কিটেকচারটা মানুষের হাতের ছোঁয়া থেকে মুক্ত হয়ে ডিজিটাল আর অটোমেটেড হয়ে যাবে, তখন বাম হাতের কোনো স্কোপই থাকবে না।
কদম আলী: ওরে আমার এলিয়েন ভাই রে! মুখে বলা তো সহজ। সিস্টেমে বিশ্বাস করব কেমনে? কম্পিউটার যদি একবার হ্যাং করে, আর ওইদিকে যদি শো-কজ নোটিশ ইস্যু হয়ে যায়, তখন কি কম্পিউটার গিয়ে কমিশনারের সামনে জবাবদিহি করবে? নাকি এই কদম আলীর ঘাড়টা যাবে?
এলিয়েন কদম আলী: কদম, তুমি এখনো এনালগ যুগে পড়ে আছো। শোনো, রাইট হ্যান্ডের সমাধান মানে হলো এমন এক ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার সিস্টেম যেখানে আইন নিজে কথা বলবে, মানুষ নয়। যখন ডাটা এন্ট্রি হবে পারফেক্ট, তখন ইনপুট-আউটপুট কোফিসিয়েন্ট হবে পানির মতো পরিষ্কার। আমাদের গ্রহে যদি কেউ ম্যানুয়ালি ভ্যাটের হিসাব লুকাতে যায়, সিস্টেম তার লেফট হ্যান্ড লেজার রশ্মি দিয়ে লক করে দেয়!
কদম আলী: বাবারে বাবা! লেজার রশ্মি? আমাদের এখানে লেজার লাগে না মিয়া, অডিট টিম এসে যে খাতা টানাটানি শুরু করে, তাতেই পিত্তি শুকায়া যায়। তবে বসের কথাটা যদি সত্যি হয়—মানে সবকিছু যদি ‘রাইট’ বা সঠিক নিয়মে চলে, তাহলে তো উকিল-মোক্তারদের চায়ের খরচ বেঁচে যায়।
এলিয়েন কদম আলী: শুধু চায়ের খরচ নয় কদম, তোমরা তো শুধু ভ্যাটের এক হাত দেখছো। বস যে প্রতিনিয়ত ট্রিপল হিট (Triple Hit)-এর কথা বলেন, সেটা টের পেয়েছ?
কদম আলী: ট্রিপল হিট? ওই যে ক্রিকেটে এক বলে তিন রান নেওয়া?
এলিয়েন কদম আলী: আরে না! মূর্খ মানব! ট্রিপল হিট হলো—ভ্যাট, কারেন্সি ভোল্টাবিলিটি, আর ইন্টারেস্ট রেট। এই তিনটার যখন একসাথে ধাক্কা লাগে, তখন বড় বড় কর্পোরেট জাহাজের নোঙর ছিঁড়ে যায়। তোমরা ব্যবসায়ীরা বাম হাত দিয়ে ভ্যাটের ফাইল লুকাতে যাও, আর ওদিক থেকে ডলারের দাম ডানে মোড় নিয়ে তোমাদের পুরো গুদাম ফাঁকা করে দেয়!
কদম আলী: হ হ, এইবার লাইনে আইছ। এই যে কদিন আগে ডলারের দাম বাড়ল, আমদানির খরচ ডাবল হলো, তার ওপর ব্যাংকের সুদের হার চড়চড় করে উঠে গেল। আমি তখন বাম হাত দিয়ে হিসাব মিলাতে গিয়ে দেখি—লাভ তো দূরের কথা, পকেটের পুঁজিই নাই। বস তাহলে এই কথাই বুঝাইছেন! যে এই তিন মাথার দানবকে সামলাতে হলে বাম হাতের চাতুরী চলবে না, একদম রাইট হ্যান্ডের নিখুঁত স্ট্র্যাটেজি লাগবে।
এলিয়েন কদম আলী: এক্স্যাক্টলি! আর এই জটিল তথ্য তোমাদের মতো সাধারণ মানুষের মাথায় ঢোকানোর জন্যই তো বস ‘এডুটেইনমেন্ট’ আর ‘ভিজ্যুয়াল জার্নালিজম’ আবিষ্কার করেছেন। যেখানে ‘একা’ আর ‘কদম আলী’র চরিত্র দিয়ে গল্পে গল্পে ভ্যাট শেখানো হয়। আচ্ছা, তোমার ওই ‘একা’ চরিত্রটা কেমন দেখতে? আমাদের গ্রহের ফিমেল এলিয়েনদের মতো সুন্দরী?
কদম আলী: আরে না রে ভাই! একা হলো আমাদের সমাজের সচেতন নাগরিকের প্রতীক। সে যখন ভ্যাটের ভুল ধরে, তখন বড় বড় ফাঁকিবাজদের ডান চোখ পিটপিট করা শুরু করে। আর আমি হলাম এই কদম আলী—যে পদে পদে হোঁচট খায়, বাম হাতের ফেরে পড়ে, আর শেষে বসের লেখা ‘কর্পোরেট কনস্টিটিউশন’ পড়ে সোজা ডানের রাস্তায় ফিরে আসে।
এলিয়েন কদম আলী: দারুণ! আমাদের গ্যালাক্সিতেও একটা বই আছে—‘কসমিক কনস্টিটিউশন’। তবে তোমাদের বসের ‘কর্পোরেট কনস্টিটিউশন (দ্যা ফিনিশড স্টোরি)’ বইটার কথা আমি ইন্টার-গ্যালাকটিক নেটে পড়েছি। ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতার নির্যাস। ওখানেও কিন্তু এই বাম হাত থেকে ডান হাতে আসার বিবর্তনের গল্প আছে।
কদম আলী: আচ্ছা ভাই কদম-X৯, তোমাদের গ্রহে যখন ভ্যাট নিয়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমা হয়, তখন তোমরা কী করো? আমাদের এখানে তো ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট করতে করতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যায়।
এলিয়েন কদম আলী: আমাদের এখানে কোনো লিটিগেশন হলে আমরা সরাসরি বসের সেই বিখ্যাত মডেল ব্যবহার করি—"No Save, No Pay"। যদি কোনো লিগ্যাল ডিসপিউট বা ভ্যাট জটিলতা থেকে ক্লায়েন্টকে পুরোপুরি মুক্ত করা না যায়, তবে কোনো ফি নেওয়া হবে না। জাস্ট জিরো কস্ট!
কদম আলী: ওরে বাবা! এই মডেল তো একদম আমাদের দেশের গরিব ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ। কারণ, বাম হাতের আইনজীবীরা তো আগেই ফাইল খোলার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা ডান পকেটে ঢুকায়। কাজ হোক আর না হোক, মক্কেলের ফরিয়াদ শোনার টাইম নাই। আর বসের এই ‘রাইট’ থিওরি তো পুরাই সাকসেস-বেসড! বাঁচলে বাঁচলাম, নাইলে নাই!
এলিয়েন কদম আলী: এটাই তো আসল ডেমোক্রেসি কদম। যখন কনসালট্যান্ট তার নিজের মেধা আর লিটারেল লিগ্যাল ইন্টারপ্রিটেশন এর ওপর ১০০% আত্মবিশ্বাসী হয়, তখনই সে বলতে পারে—‘নো সেভ, নো পে’। এটা কোনো বাম হাতের খেলা নয়, এটা বুক ফুলিয়ে ডান হাতের চ্যালেঞ্জ!
কদম আলী: অনেক হয়েছে ভাই। আর বাম হাতের গোলকধাঁধায় নাই। বসের বাণী একদম অন্তরে পঁই পঁই করে ঢুকে গেছে। আজ থেকে ভ্যাট আইনের যত লেফট-মার্কা প্যাঁচ আছে, সব রাইট সাইডে এনে ডিজিটাল ট্রাস্টের মাধ্যমে সমাধান করব।
এলিয়েন কদম আলী: একদম ঠিক। চল, আমরা মহাজাগতিক শপথ নিই। ব্যবসার আর্কিটেকচার হবে স্বচ্ছ, সিস্টেমে থাকবে শতভাগ ভরসা, আর আমাদের বসের গাইডলাইন মেনে ভ্যাটের দুনিয়া হবে একদম সরলরেখা।
কদম আলী: জয় হোক রাইট হ্যান্ডের! বিদায় হোক বাম হাতের লুকোচুরির! কদম আলী আর এলিয়েন কদম আলী এবার একসাথে গলা মিলিয়ে বলবে—‘ভ্যাট দেবেন ঠিকঠাক, ব্যবসা থাকবে লালে লাল!’
এলিয়েন কদম আলী- শোন তোর বস তো বর্তমানে আমারও বস হয়ে গেছে। তোর কানে কানে বলি শালা মনে হয় এলিয়েন, ভুল করে তোদের গ্রহে এসেছেন।