Vatbondhu News
প্রকাশ : May 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বড় কোম্পানির কর ফাঁকি ধরা হয় না, চাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর

এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন বাইকাররা

একই দাবিতে  রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেন বাইকাররা।



মানববন্ধনে অংশ নিয়ে একজন নারী মোটরসাইকেল চালক বলেন, বড় বড় কোম্পানি কর ফাঁকি দেয়, তাদের ধরা হয় না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ পড়ে। মোটরসাইকেল কিনতে নানান রকমের কর গুনতে হয়। এই করের কোনো যৌক্তকতা নেই। সরকারের কাছে প্রশ্ন- আপনারা কেন এটা করছেন।

তিনি আরও বলেন, এই কর যেন আমাদের মোটরসাইকেলের ওপর না চাপানো হয়। আমাদের ওপর জুলুম হয়ে যাবে এই কর। অনেকে কিস্তিতে পাঠাও, উবার চালানোর জন্য মোটরসাইকেল কিনে থাকেন। প্রতি মাসে ৫-৭ হাজার টাকার কিস্তি গুনতে হচ্ছে। এরপর আবার কর চাপানো হলে সাধারণ চালকরা বিপদে পড়বেন।


এ কে এম ইমন নামের একজন চালক বলেন, একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই আমাদের মোটা অঙ্কের শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। এরপর নতুন করে আবার কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই সরকার এই সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুক।

চালকরা মোটরসাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। পাশাপাশি মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিবহন মাধ্যম হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১১১-১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা ও ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দেশের লাখ লাখ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


বাইকারদের পক্ষে স্মারকলিপি জমা দেন ও মানববন্ধনে কথা বলেন এ কে এম ইমন। তিনি বলেন, ভারতে যে বাইকের দাম ১ লাখ টাকা, তা এখানে কিনতে হয় ৩ লাখ টাকায়। বাইক সাধারণ মানুষের পণ্য। রাইড শেয়ার কিংবা পণ্য ডেলিভারি দিয়ে বাইকের মাধ্যমে দিনে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করা যায়। এই করারোপ করা হলে এসব মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে অনেক নারী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার করে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করছেন। গণপরিবহনের নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানি এড়িয়ে কর্মস্থল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করার ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল তাদের জন্য কার্যকর বাহনে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর আরোপ নারীদের চলাচলে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

চালকদের দাবি, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা এরই মধ্যে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করছেন। এর সঙ্গে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভ্যাট ব্যবস্থায় বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনের সমন্বয় জরুরি : ম

1

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

2

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

3

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক রাখলেন ট্রাম্প, ১ আগস্ট কার্য

4

‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাইছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা

5

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

6

বেক্সিমকোর ২৯ হাজার শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে

7

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

8

মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার

9

জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস ক্ষতি করে কিনা তা প

10

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতি: বিদেশি বিনিয়োগে বাধ্যতামূলক ব্য

11

মোংলা কাস্টমসের রাজস্ব ঘাটতি ৭৩১ কোটি টাকা

12

আমদানিমূল্য পরিশোধের সময় বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

13

আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে : আলী রীয়াজ

14

দুর্নীতির জালে বিএসইসির ৪ বিভাগ

15

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

16

কর ব্যবস্থার সংস্কার হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক

17

তেল, আটা-ময়দা, গ্যাসসহ কিছু পণ্যে ভ্যাট তুলে দিলো এনবিআর

18

ভারত থেকে কাঁচা মরিচ এলো ৮ মাস পর

19

টেসলা কিনলেও রাস্তায় চালাতে পারবেন না ট্রাম্প

20